ঢাকা, রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ডাকাতি: চাকরিচ্যুত সেনা ও নৌ সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৭

ঢাকার কামরাঙ্গীরচর, উত্তরখান, বিমানবন্দর, ধানমন্ডি ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় শুক্র ও শনিবার অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তলসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত গাড়ি ও নানা সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।


গ্রেপ্তাররা হলেন তৈয়ব আলী সর্দার, পাভেল সর্দার, সাইফুর রহমান, রাব্বি আলম, ইমরান হোসেন ভুঁইয়া, নুরুল ইসলাম ও মো. ইসমাইল।তাদের মধ্যে পাভেল নৌ বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত পেটি অফিসার এবং রাব্বি সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সৈনিক।


এ বিষয়ে জানাতে রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম কেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলনে আসেন অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ ওসমান গণি। তিনি বলেন, ‘‘ঢাকা শহরে বেশ কিছুদিন ধরে গোয়েন্দা পুলিশ ও র‌্যাবের পরিচয় দিয়ে গাড়িতে চড়ে ছিনতাই ও ডাকাতি করে আসছিল চক্রটি। তারা পুলিশের নকল পোশাক পরে আসল ও নকল পিস্তলের মুখে এসব অপরাধ করছিল।


এমন তৎপরতার ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে কামরাঙ্গীরচরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তৈয়ব আলী সর্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন ও একটি পকেট রাউটার উদ্ধার করা হয়। তবে তার সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে যায়।’’


অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, ‘আপনারা জানেন, সন্ত্রাসীরা বা ছিনতাইকারীরা ইদানিং পকেট রাউটার ব্যবহার করতেছে, যাতে আমরা তাদেরকে ট্র্যাক করতে না পারি।’


তৈয়বকে এই চক্রের প্রধান দাবি করে তিনি বলেন, ‘তার নামে সারাদেশে ৪৫টি ডাকাতি-ছিনতাইয়ের মামলা আছে। তার বাড়ি হচ্ছে মাদারীপুর, তাকে অনেকদিন ধরে খুঁজতেছিলাম।’


কখনো নিজে উপস্থিত থেকে আবার কখনো মাদারীপুরে থেকেই কলকাঠি নেড়ে এসব ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়ে আসছিলেন তৈয়ব—এমন তথ্যও তুলে ধরেন তিনি। পরে তৈয়বের দেওয়া তথ্যে উত্তরখান থেকে পাভেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি কিরিচ, দুটি মুঠোফোন, র‌্যাবের প্রতীকযুক্ত একটি পরিচয়পত্রের ধারক, দুটি সেনাবাহিনীর মাঠপর্যায়ের টুপি ও একটি কালো লেজার বাতি উদ্ধার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যে বিমানবন্দর এলাকা থেকে সাইফুর, রাব্বি, ইমরান, নুরুল ও ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করা হয়।


পুলিশ বলছে, তাদের কাছ থেকে একটি কালো ওয়াকিটকি সেট, বাংলাদেশ পুলিশের প্রতীকযুক্ত একটি হাতকড়া, গাড়ির দুটি ভুয়া নম্বর প্লেট, তিনটি র‌্যাব লেখা পোশাক, একটি গোয়েন্দা পুলিশ লেখা পোশাক, দুটি প্রতিফলক পোশাক, পাঁচটি কালো রঙের প্রতিফলক স্টিকার, পাঁচটি হলুদ রঙের প্রতিফলক স্টিকার, একটি কালো রঙের পিস্তলের খাপ, একটি খেলনা পিস্তল এবং তিনটি স্মার্টফোন পাওয়া যায়।


পুলিশ কর্মকর্তা তৈয়ব আলী সর্দার বলেন, ‘তারা সংঘবদ্ধ হয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি ও দস্যুতার কাজ করে। ইমরানের দেওয়া তথ্যে শনিবার রূপগঞ্জে তার বোনের বাসা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তৈয়বের দেওয়া তথ্যে ধানমন্ডি এলাকা থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি ব্যক্তিগত গাড়ি উদ্ধার করা হয়।’


পিস্তলটি তৈয়ব পাঁচ থেকে ছয় দিন আগে ইমরানের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘গত মে মাসে যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজন ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে তৈয়ব ও পাভেলের সম্পৃক্ততার কথা বলেছিল। এছাড়া গত ১৩ জুলাই খিলক্ষেতের কুড়িল বিশ্বরোড উড়ালসড়কে ১২ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায়ও তৈয়বের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। দলটি সম্প্রতি একাধিক ডাকাতির কাজে সম্পৃক্ত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে।’


চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা।

ads
ads
ads

Our Facebook Page